স্পেসশিপ। টনি স্টারক। মহাকাশে কোন নির্দিষ্ট গন্তব্য ছাড়াই ভাসতে ভাসতে রেকর্ডেড মেসেজ পাঠানোর চেষ্টা করছে পৃথিবীতে, মিস পটস এর কাছে। শিপে ৪ দিন আগেই খাবার আর পানি ফুরিয়ে গেছে, অক্সিজেন ফুরিয়ে যাবে আর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই।

ঠিক এভাবেই শুরু হয়েছে মারভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের সিরিজ অ্যাভেঞ্জারস এর চার নম্বর ছবির টিজার ট্রেইলার “অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেইম”। আসলে টনি স্টারকের প্লটটা শুরু হয়েছে থানোসের গ্রহ টাইটানে অ্যাভেঞ্জারস আর থানোসের লড়াই আর নেবুলা ও টনির ছাড়া সবার মারা যাওয়ার মধ্য দিয়ে। থানোস সফল হয়েছে পুরো মহাবিশ্বের অর্ধেক প্রান কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্যে।

টিজারে সবচেয়ে লক্ষনীয় ব্যাপার হল হাল্ক। ইনফিনিটি ওয়্যার মুভিতে হাল্ককে একবারো বাইরে বেরুতে দেখা যায়নি, উল্টো পুরো মুভিতে ব্যানারকে দেখা গেছে নিজের ভেতর থেকে হাল্ককে বের করার আপ্রান চেষ্টা করতে ও ব্যর্থ হতে। নতুন মুভির টিজারেও একবার দেখা যায়নি হাল্ককে ফিরতে। কে জানে, হয়তো মূল ট্রেইলার বা পুরো ছবিতেই এই রহস্যের সমাধান মিলবে।

আরো একটি মজার ব্যাপার হল অ্যান্ট-ম্যান তথা স্কট ল্যাঙ এর আবির্ভাব। যারা অ্যান্ট-ম্যান এন্ড দ্যা ওয়াসপ একদম শেষ অব্দি দেখেছেন, অর্থাৎ ক্রেডিট-পরবর্তী সিন পর্যন্ত, সেখানে দেখা যায় হ্যানক পিম ও তার মেয়ে হোপ পিম দুজন মিলে স্কটকে আবার কোয়ান্টাম রেলমে পাঠাচ্ছে। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে থানোসের হাতে সবকটি ইনফিনিটি স্টোন চলে আসে এবং মহাবিশ্বের অর্ধেক প্রানকে সে ছাই বানিয়ে তার সাথে নিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে হ্যানক ও হোপ দুজনেই একসাথে ছাই হয়ে যায় এবং স্কটকে কোয়ান্টাম রেলম থেকে বের করার জন্য কেউ বেচে থাকে না।

কিন্তু নতুন টিজারে দেখা যাচ্ছে কোনভাবে স্কট ফিরে এসেছে সাব-এটমিক লেভেল থেকে এবং ক্যাপ্টেন রজারস আর নাতাশার সাথে দেখা করতে। এতে দেখা যাচ্ছে রজারসের চেহারায় নতুন করে আশার এক অভিব্যাক্তি ফুটে উঠেছে।

শুধু স্কট ল্যাঙ নয়, ইনিফিনিটি ওয়্যার এ মিসিং ছিলো হক-আই অর্থাৎ ক্লিন্ট। “অ্যাভেঞ্জারস: এইজ অফ অল্ট্রোন” এর পর ক্লিন্ট অবসরে যায়, তবে তাকে আবারো দেখা যায় “ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়্যার” মুভিতে। কিন্তু এরপর ইনফিনিটি ওয়্যার মুভিতে ক্লিন্ট মিসিং ছিলো। টিজারে দেখা যাচ্ছে নাতাশা ক্লিন্টকে আবিষ্কার করে জাপানের এক রাস্তায় অ্যাসাসিনেশনে ব্যস্ত। ক্লিন্টের আউটফিট দেখে অনেকটা এমন ধারনা করা হচ্ছে যে থানোসের কারনে ক্লিন্টের পুরো পরিবার ছাই হয়ে উড়ে গেছে, আর ক্লিন্ট তার অর্থ বা প্রতিশোধ তুলতে ব্যস্ত। যাই হোক, হক-আই আর অ্যান্ট-ম্যানের এর নতুন করে আবির্ভাব মুভিতে আরো নতুন নাটক আর বাক নিয়ে আসবে বলেই ধারনা করা হচ্ছে।

পুরো টিজারের এক পর্যায়ে রজারসকে বলতে শোনা যায়, “আমার এই প্ল্যান কাজ করবেই!” নাতাশা উল্টো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে বসে যে, “আর যদি না করে? তুমি এতটা নিশ্চিত কিভাবে?” উত্তরে রজারসকে বলতে শুনা যায়, “কারন আমি জানি না এটা ব্যর্থ হলে আমি কি করবো?” তার মানে কি থানোস যেই ক্ষতি করে গেছে তার পূরন করার জন্য নতুন করে আবার থানোসের মুখোমুখি হচ্ছে অ্যাভেঞ্জারস।

 

অনেক কিন্তু, যদি, কিভাবে কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। ট্রেইলার খুব শিগগিরিই হয়তো রিলিজ পাবে। কিন্তু পুরো কৌতুহল মেটাতে অপেক্ষা করতে হবে এপ্রিল পর্যন্ত। তাই যারা এখনো টিজার দেখেননি, এখান থেকে দেখে নিন: https://youtu.be/ee1172yeqyE

SHARE

LEAVE A REPLY