২০০৮ সালের ঘটনা,বক্স অফিসে মুক্তি পেল ‘আয়রন ম্যান’। সেই সঙ্গে, সিনেমা ব্যবসা আর জনপ্রিয়তার সমীকরণে তালগোল পাকিয়ে দিল একটি নাম,‘মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’, এক ঝটকায় যেন দখলে নিয়ে নিল পুরো দুনিয়ার বক্স অফিস। সেখান থেকে শেষ মুক্তি পাওয়া ছবি “অ্যান্ট-ম্যান অ্যান্ড দ্যা ওয়াস্প” পর্যন্ত কমিক সিনেমার জগতে মারভেলের যে রাজত্ব, তার পুরো কৃতিত্ব কিন্তু একজনের, স্ট্যান লি।

সেই স্ট্যান লি আর আমাদের মাঝে নেই। কমিকস আর সুপারহিরোর এই যাদুকর গত ১২ নভেম্বর, ২০১৮ তে কমিকস দুনিয়ায় এক হাহাকার সৃষ্টি করে চলে গেছেন। আজ চলুন দেখে নেই তার সৃষ্টি করা সবচেয়ে শক্তিশালী ৫ অ্যাভেঞ্জারস সুপারহিরোকে।

১। হাল্ক

মারভেল কমিকসের অন্যতম আরও একটি চরিত্র হাল্ক। ২০০৩ সালে পরিচালক আং লি মারভেল কমিকসের এই চরিত্রের উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেন হাল্ক নামক চলচ্চিত্রটি। ২০০৮ সালে নির্মিত হয় এই সিরিজের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক। হাল্ক এর অল্টার ইগো পাওয়ার কমিকসের পাতায় প্রায় সব সুপারহিরোকেই শক্তি আর মুখোমুখি লড়াইয়ে হারিয়েছে। আর শুধু কমিকস কেন, মারভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের থর, আয়রন-ম্যান, লকি এমনকি পুরো ইউ এস আর্মিকে হারাতে দেখা গেছে।

২। থর

অ্যাভেঞ্জারস সুপারহিরোদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কে- থর না হাল্ক, এ নিয়ে হতে পারে বিতর্ক। কিন্তু যেখানে হাল্কের শক্তির যায়গা তার অল্টার ইগো, সেখানে থরের শক্তির মূল যায়গা তার হ্যামার। এমনকি অ্যাভেঞ্জারস ইনফিনিটি ওয়্যার এ থর কে নতুন অস্ত্রের জন্য খোঁজ করতে হয় শুধু থ্যানোস কে হারানোর জন্য। তবে এও সত্যি, থর আসগারডের প্রিন্স, যেখানে সে পুরো গডদের একটি বাহিনীকে লিড করে। এছাড়াও নতুন অস্ত্র পাওয়ার পর একমাত্র থরের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে থ্যানোসকে কে থামানো, যদিও ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে যায়।

৩। ক্যাপ্টেন আমেরিকা

মারভেল অ্যাভেঞ্জারস এ ক্যাপ্টেন আমেরিকার তথা ক্রিস রজারস এর ভূমিকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। রজারস শুধু অ্যাভেঞ্জারস এর নেতা নয়, অন্যায় আর অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক নির্ভীক সৈনিক। তবে ক্যাপ্টেন আমেরিকার সুপার-পাওয়ার শুধু সায়েন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট থেকে আসা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর গোপন রিসার্চ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সুপার সোলজারদের একটি বাহিনী গঠনের যে চেষ্টা, তারই প্রথম এক্সপেরিমেন্ট ক্যাপ্টেন আমেরিকা। তেমন কোন সুপার পাওয়ার না থাকা স্বত্বেও ক্যাপ্টেন আমেরিকার সাহস ও বুদ্ধিমত্তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

৪। আয়রন-ম্যান

একটি ধনকুবের প্লেবয়, শিল্পপতি এবং প্রতিভাশালী ইঞ্জিনিয়ার, টনি স্টার্ক কিডন্যাপ হবার সময় বুকে মারাত্মক আঘাত পায়। তার বন্দিকর্তারা তাকে দিয়ে জোর করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ করার চেস্টা চালায়। সে পরিবর্তে একটি স্যুট তৈরি করে যা তার জীবন বাঁচায় এবং বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেয়। পরিবর্তিতে সে স্যুটটি সংস্কার করে আয়রন ম্যান হিসাবে দুনিয়া রক্ষায় ব্যবহার করে। আয়রন ম্যান প্রাথমিকভাবে ছিল স্ট্যান লী-এর জন্য স্নায়ুযুদ্ধের বিষয় অনুসন্ধানের মাধ্যম বিশেষত, সাম্যবাদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক ভূমিকা। আয়রন ম্যান পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধের বিষয় থেকে সমসাময়িক উদ্বেগ যেমন কর্পোরেট অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এছাড়াও অ্যাভেঞ্জারস এর শুরু তার হাত দিয়েই হয়।

৫। স্পাইডার-ম্যান

 

অ্যাভেঞ্জারস হিসেবে স্পাইডার-ম্যানের প্রথম আবির্ভাব “ক্যাপ্টেন আমেরিকাঃ সিভিল ওয়্যার” মুভিতে। তবে এই সুপার-হিরো ক্যারেক্টারটি অনেক আগে থেকেই মারভেল-ফ্যানদের মাঝে জনপ্রিয় “স্পাইডার-ম্যান” এবং “দ্যা অ্যামেইজিং স্পাইডার-ম্যান” সিক্যুয়ালগুলোর কারণে। তবে স্পাইডার-ম্যান পিটার পার্কারকে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে দেখা যায় এই ছবিতে, যা পূর্ণতা পায় “স্পাইডার-ম্যানঃ হোমকামিং” ছবিটির মাধ্যমে। টনি স্টারকের দেওয়া স্পাইডার স্যুটের মাধ্যমে নতুনভাবে দেখা যায় স্পাইডার-ম্যানকে এই ছবিতে।

SHARE

LEAVE A REPLY