আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে বইয়ের পাতায় আটকে রাখার পেছনে হুমায়ুন আহমেদের কতটা কৃতিত্ব, সেটা হয়তো আলাদা করে বলার দরকার নেই। কিন্তু তার মৃত্যুর পরও যে তার লেখা উপন্যাস এতোটা আলো ছড়িয়ে যাবে, সেটা হয়তো খোদ হুমায়ুন আহমেদই কল্পনা করতে পারেন নি।

বলছিলাম গত কয়েকদিনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় “দেবী” নিয়ে। যেই মিসির আলীকে বইয়ে পড়ে মন্ত্রমুগ্ধের মত কল্পনা করতাম, তিনি এখন রঙিন পর্দায় আমাদের সামনে। বইয়ের পাতায় লোকটার মাথায় অবিন্যস্ত চুল, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। কিন্তু দৃষ্টি এত প্রখর যে তাকালে মনে হবে সামনে যিনি আছেন, তাঁর ভেতরটা পড়তে পারছেন। ইনিই মিসির আলি। এ খবরও নিশ্চয়ই বেশির ভাগ মানুষ জেনে গেছেন, নতুন মিসির আলি হয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। মনপুরা, মনের মানুষ, আয়নাবাজির চঞ্চল চৌধুরী। ছোট বা বড় পর্দায় অভিনয়গুণে তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন বারবার। নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন। আর এবার মিসির আলী চরিত্রকে বাস্তব রূপ দান করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তিনি যে কতটা সফল, তা গত কয়েকদিনে সিনেমা হলগুলোতে টিকেটের জন্য হাহাকার দেখেই বোঝা যায়। আমার পরিচিত এমন অনেককেই দেখেছি, যারা একাধিকবার ছবিটি দেখার জন্য সিনেমা হলে ভীড় জমিয়েছেন।

এতো গেলো মিসির আলী তথা চঞ্চল চৌধুরীর কথা। গল্পে যে আরেকজন মূল চরিত্র আছেন, সেটা অবশ্যই ভুলে যাননি। যাকে ছাড়া হয়তো মিসির আলীর প্রকাশ্যে আগমন ঘটত না। হুম, বলছি রানুর কথা। আর এই চরিত্রে অভিনয় করে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন জয়া আহসান। রানুর চরিত্রটাই তো একটু জটিল, একই সঙ্গে দুজন মানুষ বাস করছে তার ভেতর। সেই জটিল চরিত্র কি দারুণভাবে তুলে ধরলেন দর্শকের সামনে জয়া। ভারতীয় বাংলা ছবি “বিসর্জন” এ অভিনয় করে জাতীয় পুরষ্কার জিতে নেওয়া জয়া রানুর চরিত্রে অসাধারন অভিনয় করে আরেকবার প্রমাণ করলেন নিজেকে।

রাজধানীর সিনেমা হলগুলোতে ‘দেবী’র জয়জয়কার। স্টার সিনেপ্লেক্সে রেকর্ডসংখ্যক ১২টি শো চলছে। সবগুলো শো’ই হাউসফুল ছিলো। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনের জন্য অগ্রিম টিকেট বিক্রিও প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে আগের দিন। শুরুতেই এমন অবিশ্বাস্য সাড়া এর আগে কোনো সিনেমা পায়নি। নিকট অতীতে সাফল্য পাওয়া সিনেমাগুলো সাধারণত মুক্তির কয়েক দিন পর কিংবা সপ্তাহ খানেক পর দর্শকের উন্মাদনা পেয়েছে, তবে ‘দেবী’ একেবারে রাজকীয় সূচনা করলো বলেই মনে করছেন হল মালিকরা।

শুধু স্টার সিনেপ্লেক্সই নয়, রাজধানীর শ্যামলী হলেও ‘দেবী’র প্রথম দিন হাউসফুল ছিলো। এছাড়া বলাকা সিনেমা হলেও দুপুরের শো ছাড়া বাকি সবগুলো শো ছিলো দর্শকে ঠাঁসা। শহরের অন্যতম সিনেমা হল মধুমিতা’তেও ‘দেবী’র দর্শক প্রচুর।

সিনেমা হলের দর্শকের উপচেপড়া ভিড়ের আঁচ লেগেছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। দর্শকরা ‘দেবী’ দেখে আসার পর নিজ নিজ অভিমত ব্যক্ত করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। উচ্ছ্বাস নিয়ে জানাচ্ছে, এই সিনেমার ইতিবাচক দিকগুলো।

দর্শকের প্রতিক্রিয়া থেকে জানা যায়, ‘দেবী’র প্রত্যেকটি চরিত্র নিজ নিজ অবস্থানে দারুণ অভিনয় করেছেন। দেশীয় চলচ্চিত্রে জয়া আহসানের সেরা অভিনয় হয়েছে এই সিনেমায়; এমন মন্তব্যও করছেন অনেকে। এছাড়া ছোট পর্দা থেকে ‘দেবী’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হওয়া শবনম ফারিয়ার সূচনাটাও দুর্দান্ত হয়েছে বলে মন্তব্য সিনে বিশ্লেষকদের। আর চঞ্চল চৌধুরী তো বরাবরের মতই অসাধারণ!

তবে, আপনি কেন বসে? পরের দিনের টিকেটটা বুক করে ফেলুন আজকেই, নয়তো দেখতে যে আরো দেরি হয়ে যাবে!

SHARE

LEAVE A REPLY