পুরান ঢাকা বলতেই সবার আগে কি ভেসে উঠে চোখে? উত্তর যে খুবই কমন- সারি সারি খাবারের দোকার আর তাতে মুখরোচক খাবারের পসরা। আদিকাল থেকেই পুরান ঢাকার লোকজন বেশ ভোজনরসিক। তাই নানান স্বাদ আর নানান বাহারের খাবাবের মেলা বসে প্রতিদিন পুরান ঢাকার চকবাজার, লালবাগ, চানখারপুল, নাজিমুদ্দিন রোডে। মসলাদার খাবার এখানে বেশি জনপ্রিয়। যদি আপনি ঘুরতে ভালোবাসার পাশাপাশি ভোজনরসিক হয়ে থাকেন, তবে পুরান ঢাকা হতে পারে আপনার জন্য দারুণ একটি জায়গা।পুরান ঢাকার বিখ্যাত ১০টি খাবার নিয়ে লেখার প্রথম পর্বে আজ চলুন জেনে নেই ৫টি বিখ্যাত খাবারের কথা-

১। কাচ্চি বিরিয়ানি

পুরনো ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোড, নাজিমুদ্দিন রোড, উর্দ্দু রোড, বংশাল, সিদ্দিকবাজার, চকবাজার, নবাবপুর, ইসলামপুর, ওয়ারী, মালিটোলা এবং মৌলভীবাজার এলাকায় কাচ্চি বিরিয়ানীর দোকানগুলো গড়ে উঠেছে। ভাল মান এবং ভাল স্বাদের জন্য কাজী আলাউদ্দিন রোডের হাজীর বিরিয়ানী, হানিফ বিরিয়ানী, মৌলভীবাজার রোডের নান্না মিয়ার বিরিয়ানী, উর্দ্দু রোডের রয়েল বিরিয়ানী, নারিন্দার ঝুনার কাচ্চি বিরিয়ানী, মালিটোলার ভুলুর বিরিয়ানী, নবাবপুরের ষ্টার হোটেলের কাচ্চি বিরিয়ানী, সুরিটোলার রহিম বিরিয়ানী এবং নাজিমুদ্দন রোডের মামুন বিরিয়ানী ঢাকায় বিখ্যাত। এখানে প্রস্তুতকৃত কাচ্চি বিরিয়ানির অতুলনীয় স্বাদ এবং গন্ধের কারনে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন ছুটে আসেন এই পুরনো ঢাকায়। দোকানগুলোর পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই সুস্বাদু কাচ্চি বিরিয়ানির সুঘ্রাণ পাওয়া যায়।

২। বাকরখানী

বাকরখানি মূলত মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের রুটি। রুটিটার প্রস্তুত প্রণালী ও ভাজার উপায় অন্যান্য রুটি থেকে একদমই আলাদা। পুরান ঢাকার মানুষেরা সকালের নাস্তায় চায়ে ভিজিয়ে এই খাবারটি খেতে বেশ পছন্দ করেন। শুধু পুরান ঢাকাতেই না, এর জনপ্রিয়তা আরো বিস্তৃত। এই জনপ্রিয়তাতেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন তৈরি হয় বাকরখানি। তবে পুরান ঢাকার বাকরখানির বিশেষত্বই আলাদা, যা অন্য জায়গায় পাওয়া যায় না। পুরান ঢাকার জিঞ্জিরার বরিশুর, লালবাগ, নাজিমুদ্দিন রোড, চানখাঁরপুল, কসাইটুলি, নাজিরাবাজার, নবাববাড়ি, নবরায় লেন ও সূত্রাপুরে বাকরখানির বেশ কিছু দোকান ও কারখানা আছে।

৩। বিউটি লাচ্ছি

 বিউটি শরবত ও লাচ্ছির বয়স প্রায় একশ বছর। দিন যতই যাক, মানে এখনো অনন্য বিউটি লাচ্ছি। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে অবস্থিত বিউটি লাচ্ছির জনপ্রিয়তা শুধু পুরান ঢাকায়ই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে বিক্রি হয় লেবুর শরবত, মিষ্টি দই দিয়ে তৈরি বিউটির লাচ্ছি ও ফালুদা। এখানে পাওয়া যায় ১৫ টাকার শরবত, ৩০ টাকায় লাচ্ছি ও ৪০ টাকায় বিট লবণ দেয়া স্পেশাল এক লাচ্ছি। পুরান ঢাকার রায়সাহেব মোড় থেকে জনসন রোড ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে কয়েক পা এগুতেই রাস্তার পশ্চিম পাশে মিলবে বিউটি লাচ্ছির দেখা। গুলিস্তান থেকে সরাসরি রিক্সাযোগেও যেতে পারবেন। পরিচিত এই নামটি শুনলে যে কেউই দেখিয়ে দিবে। তাই খুঁজে পেতে খুব বেশি ধকল যাবে না।

৪। মুড়ি ভর্তা

আমরা মোটামুটি ‘ঝাল মুড়ি’ বা ‘মুড়ি মাখা’ শুনেই অভ্যস্ত হলেও পুরান ঢাকায় এর নামে ‘মুড়ি ভর্তা’। তবে নামের পাশাপাশি ভিন্নতা আছে স্বাদেও। তাই হয়তো এই খাবারটাকে ঝালমুড়ির থেকে আলাদাই ভাবতে হবে। বিভিন্ন শাহী মসলার মিশ্রণে মুড়ির স্বাদটা জিভে লেগে থাকবে বহু সময়। এটি পুরান ঢাকার বেশ জনপ্রিয়তম খাবারের একটি। বিশেষ করে মসলা জাতীয় খাবারের মধ্যে এটি অন্যতম। বিশেষ বিশেষ মসলার মিশ্রণে পরিবেশন করা হয় মুড়ি, যার স্বাদ আপনি পুরান ঢাকা ছাড়া পাবেন না আর কোথাও। পুরান ঢাকার জিঞ্জিরা, লালবাগ কেল্লার মোড়, নাজিরা বাজার, চকবাজার এই জায়গাগুলোয় পেয়ে যাবেন। এছাড়াও অলিতে গলিতেও দেখা মিলবে অনেক।

৫। সুতি কাবাব

 

কাবাবের জন্য পুরান ঢাকার অনেক বেশি খ্যাতি। এখানে তৈরি হয় নানা রকম কাবাব। সুতি কাবাব তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পুরান ঢাকার বিভিন্ন গলিতে দেখা মেলে এই কাবাবের। ‘স্ট্রিট ফুড’ হিসেবে কাবাব বেশি জনপ্রিয় এখানে। আপনি পুরান ঢাকা ভ্রমণকালে বিভিন্ন গলিতে ছোট্টখাটো ভ্রাম্যমাণ দোকানেও দেখবেন বেশ লম্বা লাইন বা ভিড়, শুধুমাত্র কাবাবের জন্যই।

SHARE

LEAVE A REPLY