ঈদের ছুটি হয়ে গেছে। মনে চলছে একটা চেপে রাখা আনন্দ, না প্লিজ এমন আনন্দের বিষয় কে চেপে রাখবেন না, এটা কি গোপন প্রেম যে বুকের ভেতর আগলে রাখবেন? তাই এই খুশিতে একটা চিৎকার ও দিতে পারেন।

“ঈদের প্ল্যান কি?” এমন প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে কিন্ত কোথায় যাবেন কি করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না নাকি আমার মতই বাসায় ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেবেন ভাবছেন? যদি শুধু ঘুমিয়ে কাটাতে না চান তাহলে চলুন একটু পুরনো দিনে ফিরে যেতে পারি। মানে সেই পুরনো দিনের কিছু হিন্দী ছবি দেখে যদি ছুটির দিনের রাত গুলো কাটিয়ে দেয়া যায় খুব একটা খারাপ হয় না আর সাথে যদি থাকে আম্মু হাতের রান্না।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে কোন কোন ছবি গুলো দেখা যায় ( যদিও মুভি গুলো আগেও দেখেছি কিন্তু ভাই একটা কথা আছে না পুরানো চাল ভাতে বাড়ে)।অনেক চিন্তা-ভাবনা করে ( আসলে কিছুই করি না) নীচের ছবি গুলো আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি সাথে দিয়ে দিলাম কিছু পাণ্ডিত্যপূর্ণ তথ্য। তাহলে চলুন জেনে নেই সেই লিস্টঃ

পুরনো ৭ টি হিন্দি মুভি যা এই ছুটিতে দেখতে পারেনঃ

আন্দাজ আপনা আপনা

আমির খান আর সালমান খান কে এই মুভির পর আর একসাথে দেখা যায় নি সত্য কিন্তু এই ছবি দেখার আগে ভালো করে মুত্র বিসর্জন করে আসবেন কারন এই মুভি দেখে হাসতে হাসতে আপনার মুত্র বিসর্জন হয়ে গেলে রাজকুমান সান্তষি ( ছবির পরিচালক) দায়ী। বলিউডে অনেক কমেডি মুভি হয়ত হবে আগামী ৫০ বছর কিন্তু এমন একটা মুভি আর হবে কিনা সেটা নিয়ে আমি কিছুটা সন্দিহান।

আমির খান সালমান খান ছাড়াও তাদের সাথে নেচে গেয়ে অভিনয় করেছেন কারিশ্মা কাপুর আর রাভিনা টেন্ডন ( তিনি তখন যা ছিলেন, উফফ)। তবে যেই মানুষের অভিনয়ের কথা না বলে বুঝানো যাবে না তারা দুজন হলেন পরেশ রাওয়াল এবং শক্তি কাপুর। যারা ছবিটা দেখেছেন তারা চাইলে আবার দেখতে পারেন , যারা দেখেননি তাদের জন্য আগে  ২ মিনিট নীরবতা তারপর প্লীজ মুভিটা দেখে ফেলুন।

ইশক

আবারো আমির খান। এই লোক কে আর ছাড়া যায় না। এবার তার ক্রাইম পার্টনার ছিলেন অজয় দেবগন।এই মুভিটিও আপনাকে বেশ হাসাবে। তাদের সাথে আছেন কাজল এবং জুহি। আর জনি লিভার ছিলেন কিন্তু খুব বেশি কারিশ্মা দেখানোর সুযোগ পাননি কারন আমির আর অজয় পুরো দর্শক মাতিয়ে রেখেছিলেন। মুভিতে কিছু গান পাবেন যা আমাদের ৯০ দশকের সবার খুব প্রিয় ছিল যেমন নিধ চুরায়ি মেরি কিস নে ও সানাম তু নে, ইশক হুয়া, আখিয়া তু মিলা না রাজা— বেশ ভালই লাগবে আশা করি।

পেয়ার কিয়া তো ডার না কেয়া

একটু লুতুপুতু টাইপ প্রেমের মুভি যারা এখনো দেখেন তাদের জন্য বেশ ভালো একটা মুভি হতে পারে সালমান খানের এই মুভিখানা। ১৯৯৮ সালের অনেক বড় ভাই ব্রাদার রা আমাদের ভাবিদের কে পটানোর সাহস পেয়েছেন এই মুভি দেখে। মেয়ের গুন্ডা টাইপ বড় ভাই থাকলে যে সেই মেয়ের সাথে প্রেম করা যাবে না এই নীতি যে চলবে না তা আমরা দেখেছি এই মুভি থেকে। সালমান আর কাজল কে যারা অন স্ক্রিনে একটু রোম্যান্টিক ভাবে দেখতে চান তাদের জন্য এটা একটি ভালো মুভি হতেই পারে। আর সেই গান “ ও ও জানে জানা , ঢুন্ডে তুজে দিওয়ানা, সাপ্নে মে রোজ”

বাস্তাব– দ্যা রিয়েলিটি

যারা সঞ্জয় দত্তের ফ্যান তারা সবাই জানেন বাস্তাব কতটা জনপ্রিয় একটা মুভি। ছবিতে খুব সুন্দর করে দেখান হয়েছে কীভাবে ছোট একটি অপরাধের ভুলের কারনে একটি জীবন শেষ হয়ে যায়। সঞ্জয় দাত্তের এই মুভির জন্য তিনি অনেক প্রশংসা কুরিয়েছেন।

বাদশাহ

শাহরুখের এই মুভিটা বক্স অফিসে কোন সাড়া না ফেললেও সাড়া ফেলবে আপনার হাসির স্কেলে। ফাস্ট  টু লাস্ট যদি কোন কমেডি মুভিতে শাহরুখ কে দেখতে চান তাহলে বাদশাহ হবে আপনার পছন্দের একটি ছবি। শাহরুখের সাথে আছেন অক্ষয় কুমারের পত্নী টুইংকেল খান্না। মুভিটা দেখতে বেশ ভালই লাগবে কথা দিচ্ছি।

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে

চলে এলো সেই মুভির নাম যে মুভি আজও মানুষের মনে নাড়া দেয় ( সবার না)। শাহরুখ আর কাজলের সেই রোম্যান্টিক মুভি যা শাহরুখ কে করেছে কিং কিন্তু কাজল কে করে নাই কুইন!! ৯০ এর মুভি নিয়ে কথা বলতে হলে এই মুভির নাম আসতেই হবে। আজও মারাঠি মন্দিরে চলে এই মুভি। ভাবা যায় কি পরিমাণ পাগল হলে মানুষ এই লসের কারবার করতে পারে। আমি হলের মালিক হলে এই কাজ করতাম না, আমার টাকার মায়া বেশি ভাই!! তবে এই মুভি খানা আজও রাতে মাঝে মাঝে দেখি, চাইলে এই ছুটিতে আপনারাও দেখতে পারেন।

লাইফ মে কাভি কাভি

লিখা টা শেষ করেই ফেলেছিলাম। হঠাৎ করেই মনে হল একটা এমন মুভির নাম বলে যাই যেটা হাসির না, রোম্যান্টিক না কিন্তু জীবন কে খুব কাছ থেকে খুব ভালো একটা শিক্ষা দিতে পারে। আফতাব, ডিনো মারিয়া আর নাম না জানা অনেক অভিনেতা- অভিনেত্রী রা মিলে করেছিলেন এই মুভি টি যার মুল উদ্দেশ্য ছিল জীবনে সুখ কে খুজে পাওয়ার চেস্টা। পাঁচ বন্ধু মিলে বাজি ধরে তারা জীবনে সব চেয়ে সুখী আর সেই জন্য তারা ৫ বছরের একটা বাজি ধরে। সেই বাজী কে ধরেই চলতে থাকে গল্পের কাহিনী। খুব ভালো একটি মুভি কিন্তু যা হয় আর কি বলিউডে ভালো ছবি খুব একটা ভালো চলে না।

যাই হোক, অনেক মুভি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছেন এখন মুভি গুলো ডাউনলোড করে বাইরে থেকে ঘুরে আসুন। রাতের বেলা একটা কড়া কফি আর কিছু মায়ের হাতের রান্না নিয়ে বসে পড়বেন মুভি দেখতে। সারাক্ষণ ঘরে বসে থাকলে হবে!! জান না একটু ঘুরে আসুন, দেখবেন বাইরের পৃথিবী টাও বেশ উপভোগের।

LEAVE A REPLY