সাথে করে ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে ঘোরার দিন তো চলে গেছে অনেকদিন আগেই। ডিএসএলআর নিয়ে ঘোরাটা যতোটা না কঠিন, তারচেয়ে ডিএসএলআর এর দামটা বেশি কঠিন। কিন্তু ডিএসএলআর’কেও বাহুল্য করে দিচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তির ক্যামেরা ফোনগুলো। প্রোফাইল পিকচার তোলা থেকে শুরু করে সেমি প্রোফেশনাল ফোটোগ্রাফি করার জন্য হাতের ক্যামেরাফোনগুলোই যথেষ্ট। যদি ভেবে থাকেন ভালো ক্যামেরা ফোন তো সেই ৭০/৮০ হাজার টাকাই, কম আর হলো কোথায়? এ ধারণা আসলে একেবারেই ভুল! একটু দেখেশুনে কিনলেই তুলনামূলক কম দামের মধ্যেই পেয়ে যাবেন অসাধারণ পারফর্মেন্স এর ক্যামেরাফোন। তাহলে চলুন দেখে নিই ২৫০০০ এর নিচে কোন ফোনগুলো আপনাকে দিতে পারে সেরা ক্যামেরা আর সেরা ছবি!

৫। Motorola Moto G5S Plus

বাজারের আর পাঁচটা ব্র্যান্ডের চেয়ে একটু ভিন্ন ডিজাইনের ফোন বানানোর জন্য সবসময়ই পরিচিত ছিলো Motorola। এই ফোনটিও তার বাইরে নয়। চমৎকার ডিজাইন করা ডুয়াল ক্যামেরা আর ফ্ল্যাশ ফোনটিকে দিয়েছে অন্য সব স্মার্টফোনের চেয়ে আলাদা সৌন্দর্য। শুধু সৌন্দর্যই নয়, ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দুটো ঝকঝকে ছবি তোলার জন্যেও অনন্য। তবে দুটো ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা থাকলেও ডেপথ ডিটেকশন এর জন্য ডেডিকেটেড ক্যামেরা না থাকায় ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে পোর্ট্রেট তুলতে চাইলে এই ফোনটি তার জন্যে নয়। আর হ্যা! সেলফিবাজদের জন্যে ফোনটির সামনেও আছে ফ্ল্যাশসহ ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা! ৪ জিবি র্যাম আর ৩২ জিবি মেমোরি যুক্ত ফোনটির বর্তমান বাজারমূল্য ২০০০০ টাকা।

৪। Huawei Nova 2i

দেখতে অসাধারণ সুন্দর এই ফোনটিতে আছে এই রেঞ্জের অন্যান্য ফোনের চেয়ে বড় মাপের ৫.৯৩ ইঞ্চি পর্দা। ফোনটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সামনে পেছনে মিলিয়ে চারটি ক্যামেরা। সামনে আছে ১৩ আর ২ মেগাপিক্সেল আর পেছনদিকে আছে ১৬ আর ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা । ১৩ আর ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দুটি অন্য সব ইনফরমেশন ক্যাপচার করে আর ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাগুলো ক্যাপচার করে ডেপথ। ডেপথ ক্যাপচার করার ডেডিকেটেড ক্যামেরা থাকায় পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে দিয়ে তোলা যায় সেলফিও! ফোনটিতে আরো আছে ১৮:৯ রেশিওর পর্দা যা গেমিং আর মুভি দেখাকে করে তুলবে আরো উপভোগ্য। ৪ জিবি র‍্যাম আর ৬৪ জিবি মেমোরি সম্পন্ন ফোনটির বাজারমূল্য ২৪৯৯০ টাকা।

৩। Samsung Galaxy J7+

স্মার্টফোনের বাজারে এক নাম্বার কোরিয়ান ব্র্যান্ডটি মাঝারি রেঞ্জের ফোনেও এখন দিচ্ছে বেশ ভালো মানের ক্যামেরা। J7+ ফোনটিতে পেছনদিকে আছে ১৩ মেগাপিক্সেল আর ৫ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা করে ক্যামেরা। পেছনের ক্যামেরা দুটির Aperture 1.7 আর 1.9 । Samsung এর স্পেশাল ওয়াইড শট ছবি তোলার প্রযুক্তি ছাড়াও আছে ক্লোজআপ এঙ্গেল ছবি তোলার সুবিধা। সেলফিবাজদের জন্য সুখবর! ফোনটির সামনের দিকেও আছে উজ্জল LED ফ্ল্যাশ আর ১৬ মেগাপিক্সেল (f/1.9) ক্যামেরা যা দিয়ে কম আলোতেও তোলা যাবে চমৎকার সেলফি! ৫.৫ ইঞ্চি ফুল এইচডি পর্দার ফোনটিতে আছে ৪ জিবি র‍্যাম এবং Octa Core প্রসেসর। ফোনটি কিনতে হলে পকেট থেকে গুনে দিতে হবে ২৩০০০ টাকা।

২। Huawei Honor 7x

৫.৯৩” পর্দার ফোনটিতে পেছনদিকে আছে ১৬ মেগাপিক্সেল আর ২ মেগাপিক্সেল দুটি ক্যামেরা। ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটি ডেপথ ক্যাপচার করা ছাড়াও স্বল্প আলোতে ছবি তোলার সময় ছবিতে যোগ করে আরো ডিটেইল। সামনের দিকেও আছে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ফোনটির পর্দা ১৮:৯ রেশিওর যা আপনার দেখার অভিজ্ঞতাকে করে আরো চমৎকার। ৪ জিবি র‍্যাম আর ৬৪ জিবি মেমোরির ফোনটির বর্তমান বাজারমূল্য ২৩৫০০ টাকা।

১। Xiaomi Mi A1

তুলনামূলক কম দামের মধ্যে সেরা মানের স্মার্টফোনের জন্য Xiaomi’র জুড়ি মেলা ভার। Mi A1 ফোনটিও এ ধারার বাইরে নয়। ৫.৫’ পর্দার এ ফোনটির পেছনদিকে আছে দুটি শক্তিশালী ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, একটি ওয়াইড এঙ্গেল আর আরেকটি টেলিফোটো লেন্স। ওয়াইড এঙ্গেল ক্যামেরাটিতে আছে ২৬ মিলিমিটার f/2.2 লেন্স। টেলিফোটো লেন্সটি ৫০ মিলিমিটার f/2.6 লেন্স, অনেকটা আইফোন সেভেন প্লাস এর ক্যামেরার মতো। টেলিফোটো লেন্স থাকায় ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে দিয়ে যেকোনো ছবি বিশেষ করে পোর্ট্রেট তোলার জন্য ফোনটি অসাধারণ। সাথে থকছে 2X অপটিকাল জুম। কম আলোতে ছবি তোলার জন্য ফোনটিতে আছে স্পেশাল HHT মোড যাতে কম আলোতেও বেশ ভালো মানের ছবি তোলা যায়।

সেলফি তোলার জন্য ফোনটির সামনের দিকে আছে ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা যা একইসাথে 1080p এইচডি ভিডিও ধারণ করতে পারে। আর হ্যাঁ, পেছনের ক্যামেরা দুটো 2160p রেজল্যুশনের সলিড 30fps ভিডিও ধারণ করার ক্ষমতা রাখে।

LEAVE A REPLY